বিশ্ব জুড়ে শহীদ মিনার

1952 সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মৃতিকে অমর করে রাখার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলে প্রাঙ্গনে নিমিত হয় একটি স্মৃতিস্তম্ভ।বতমানে এটি 'শহীদ মিনার' নামে পরিচিত।বাঙালির আত্মাপরিচয়ের প্রতীক 'শহীদ মিনার'।বিশ্বের যেখানেই বাংলা ভাষার জনগোষ্টী রয়েছে, সেখানেই মাথা তুলে দাড়াচ্ছে গৌরবের 'শহীদ মিনার'।

দেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার
বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।গ্রেট ম্যানচেস্টারের ওল্ডহ্যামের ওয়েস্টউড নেবারহুডে নির্মিত হয় এ শহীদ মিনার।'বাংলাদেশী কালচারাল অ্যান্ড হিস্ট্রি ইন ওল্ডহ্যাম' শহীদ মিনার নির্মাণ করে এক অনন্য দূষ্টান্ত স্থাপন করে। ওল্ডহ্যাম ইংল্যান্ডের উওর-পশ্চিমের একটি ঐতিহ্যবাহী শহর।লন্ডন এবং বার্মিংহামের পর ওল্ডহ্যামেই সর্বাধিক বাঙালির বসবাস।সেখানকার কিছু বাঙালি যুবক 1990 সালে ওল্ডহ্যামে স্থায়ীভাবে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য কাউন্সিলের কাছে আবেদন করে।তখনকার ওল্ডহ্যাম কাউন্সিলের বাঙালি কাউন্সিলর আবদুল জব্বারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ওল্ডহ্যাম কাউন্সিল সেখানে স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণের লক্ষ্যে 25,000 পাউন্ড ও প্রয়োজনীয় জায়গা বরাদ্দ দেয়।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আদলে নির্মিত ওল্ডহ্যামের এ শহীদ মিনারটি নির্মিণ কাজ সম্পন্ন হয় 1996 সালে।5 অক্টোবর 1997 এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মক্ত করে দেয়া হয়।বাংলাদেশের বইরে স্থায়ীভাবে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার এটি। এ পর্যন্ত লন্ডনে 3টি স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিণ হয়েছে।বাকি দুটির একটির অবস্থান আলতাব আলী পার্কে।17 ফেব্রুয়ারি 1999 যুক্তরাজ্যের পূর্ব লন্ডন শহরের অ্যাডলার স্টিটে অবস্থিত হোয়াইট চার্চ লেন এবং হুইটচ্যাপেল হাই স্টিটের পার্শ্ববতী আলতাব আলী পার্কে ঢাকাস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনরের রেপ্লিকা তৈরি করা হয়।পূর্বে এ পার্কের নাম ছিল সেন্ট মেরিস পার্ক।প্রবাসী বাঙালী আলতাব আলীর স্মরনে এ পার্কের নামকরন করা হয় আলতাব আলী পার্ক।আরেকটি শহীদ মিনর অবস্থিত লুটন শহরে, যা স্থাপিত হয় 8 ই আগস্ট 2004 সালে।

সরকারের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার
জাপানের রাজধানী টোকিওর প্রাণকেন্দ্র ইকেবুকুরো নিশিগুচি নির্মিত শহীদ মিনারটি বহিবিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার।এ পার্কে শহীদ মিনার আছে বলে প্রবাসীরা পার্কটির নাম দিয়েছে  'শহীদ মিনার পার্ক'।শহীদ মিনারটির উচ্চতা 2.6 মিটার এবং প্রস্থ 2.5 মিটার।ঢাকায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের মাপের সাথে মিলিয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে।এটি সম্পূণ স্টিল ফ্রেমে তৈরি।12 জুলাই 2005 এর ভিওিপ্রস্তর স্থাপন এবং 16 জুলাই 2006 এটি উদ্বোধন করা হয়।এ শহীদ মিনারটির সামনে একটি সাদা ফলকে জাপানি, ইংরেজি ও বাংলা- এতিন ভষায় পাশাপাশি লেখা আছে শহীদ মিনারঃ 'ভাষার প্রতি ভালোবাসার মিনার'।

যুক্তরাস্ট্রে শহীদ মিনার
16 ফেব্রুয়ারি 2015 মার্কিন সরকারের অর্থায়নে শহীদ মিনার যুক্তরাস্ট্রে  নির্মিত প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।শহীদ মিনারটি নিউজাসির প্যাটারসন শহরে অবস্থিত।12 অক্টোবর 2014 সালে এর নিমাণ কাজ শুরু হয়।এছাডাও যুক্তরাস্ট্রে  নিউইয়কে প্রথমবারের মতো নির্মিত হচ্ছে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার।সিটি ইউনিভাসিটি অব নিউইয়কের লাগোডিয়া কমিউনিটি কলেজের ই বিল্ডিং এবং এম বিল্ডিংয়ের মাঝে খোলা চত্বরে 10 ফুট বাই 10 ফুট সাইজের হবে।

ইতালিতে শহীদ মিনার
ইউরোপে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পর ইতালি অ্যাড্রিয়াটিক (Adriatic) সাগরের কূলঘেঁষা বন্দর শহর বারিতে নিমিত হয় একটি স্থায়ী শহীদ মিনার।2008 সালে এখানে শহীদ মিনার নিমাণের অনুমতি দেয়া হয়।18 সেপ্টম্বর 2010 সালে প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপিত হয় এর রাজধানী রোমে।18 ফেব্রুয়ারি 2011 সালে ভিয়া পানামার ইসহাক রবিন পার্কে শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।7 মিটার দৈঘ্য ও 2.10 মিটার প্রস্থের শহীদ মিনারটি নিমাণের খরচ বহন করে বাংলাদেশ।

দেশের বাইরে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি শহরের ওরমন্ড স্ট্রিটের অ্যাফিন্ড পাৰ্কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ অবস্থিত।19 ফেব্রুয়ারি 2006 এটি নিমান করা হয়।স্মৃতিসৌধটি সম্পূণ পাথরের তৈরি।এর সম্মুখভাগ একটি গ্লোব বসানো আছে। অস্ট্রেলিয়ার অবস্থানরত বাঙালিদের সাংস্কূতিক সংগঠন একুশে একাডেমির উদ্যোগে নিমিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ।
বিশ্ব জুড়ে শহীদ মিনার বিশ্ব জুড়ে শহীদ মিনার Reviewed by MD ALAMIN on 15:29 Rating: 5

No comments:

Powered by Blogger.